।।কথামুখ।। ঊর্ণনাভ চট্টোপাধ্যায়
মফঃস্বলের কোন কিশোর।বাঁচবার প্রতিটা মুহূর্তই যার মনে অসম্ভব বিস্ময়ের জন্ম দিয়ে চলে।মাটির প্রতিমা দেখলেই যাকে স্পর্শ করে ফেলে অনাবিল কাশগুচ্ছ - তেমন কিশোর।যে ভয় পায় এবং যার স্মৃতির গভীরে থাকে হারিয়ে যাওয়া লোকবৃত্তের নানা গল্প-নির্যাস।তার প্লাতেরো নেই,কিন্তু প্লাতেরোর মত করে তাকে ভালোবাসে সতেজ পেয়ারাগাছ,হলুদ বেড়াল এবং একজন বৃদ্ধা ভিক্ষুক।সে ভালো বোধ করে।ভালোবাসা পেলে ভালো লাগে তার।দুপুরের সাথে তার সহজ ক্রীড়ায় সময় থমকে যায়।যেমন থমকে দেখে বিকেলের রোদে কতগুলো কবুতর তাকে।পেয়ারাগাছের মতই বোকা তেমন কিশোরের নিজের বলতে সম্বল শুধু খেয়ালখুশি কথা বলবার স্বাধীনতা।সমস্ত মলিন প্রাত্যহিকতা থেকে দূরে পুরোনো টবের গায়ে প্রবীণ শৈবাল খুঁজে পায় সে।পেতে হয় তাকে।না পেলে কবুতরেরা তাকে প্রশ্ন করবে কী শিখেছে সে এতকাল - এই যে এত দুপুরের শ্রম,কতটুকু জমা হল তার?
কারোর গৃহিণীপনা ফুরোয় না দুপুর ফুরোলেও।বৈশাখের ছাদজুড়ে অভ্যস্ত হাতের নিপুণতা বাজে।সে ধ্বনি কান পেতে শুনে নিতে গেলে দার্ঢ্য থাকা চাই!দুপুর যে কতখানি ঋণী সেই কিশোরের কাছে তা কী সেই গৃহিণীর জানা?
বেলা পড়ে এলে তবু থেকে যায় কথকতা,কথা।পুরোনো গলির পথে সমস্ত অপেক্ষা ফুরোলো।যাকে মনে হয়েছিল সম্প্রতি বয়সে নতুন,যার চোখে মফঃস্বলের সব মেয়ে আবর্তমেঘ - তার আশৈশব বোধের পরিধি জেনে প্রীত হল বিগত সময়।
এই যে অনুসন্ধান,এতে চিবুকে নরম তিল মেলে।শ্রান্ত নারীর ভেজা আঁচলে জুড়িয়ে যায় চাবি।আশ্রয়ে ফিরবার আবেগ এখনো তাকে ঘিরে রাখে - সে কিশোর, মন যার ঠিকানা হারিয়ে সন্তাপী,গাছের শিকড় ছুঁয়ে যার কোন ফিরতে পারার পথ নেই;তারই তরে আজ সহানুভূতির দুটি ফুল রেখে গেছে প্রতিবেশী ও আত্মজনে!

অসাধারণ
উত্তরমুছুনধন্যবাদ।এই পথ চলায় আমাদের পাশে থাকুন।
মুছুন