পোস্টগুলি

জুন, ২০২০ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

।।জনতা কারফিউয়ের ডায়রি।। শিমূল সেন

ছবি
ছবিতে আর কতটুকু বোঝা যায়। সাউন্ডস্কেপ হাজির করা গেলে হয়তো ভাল হত। জনতা কারফিউয়ের সকালকার কলকাতার যে রূপ দেখলাম, কোনও দিনই তা দেখি নি। আমার বাবারা কোল্ড ওয়ার, নকশালবাড়ি প্রজন্ম– মানুষী সভ্যতার একেবারে তুঙ্গ ক্লাইম্যাক্স। মৃদু হেসে বলা যায়, ওঁরাও ওঁদের যৌবনে দেখেন নি। হাওয়া যে হাওয়া, তাকেও চেনা যাচ্ছে এই রোববার সকালে। রোদ্দুর যে রোদ্দুর, সেও আলাদা করে স্পর্শযোগ্য। চার-পাঁচটি বাড়ি পরে প্রেশার কুকারে সিটি পড়ল, পাখি অনেক ওপরে ডানা ঝাপটাল, চার পাশ খাঁ খাঁ চুপচাপ– শুধু অবিশ্রাম রোদ্দুর আর হাওয়ার খেলা। গাছে জল দিচ্ছি, বহু দিন পর সে পরম মমতায় আস্বাদ নিচ্ছে অমোঘ সঞ্জীবনীর, সবুজ পাতায় জলের স্পর্শশব্দ নৃত্যমুদ্রা-সমেত যেন খেল দেখাচ্ছে। একটি যানের মৃদু ঘড়ঘড় শোনা গেল: মাথার ওপরের উড়োজাহাজ। তা বাদে পাখির ডাক, আর নীচে বিরামহীন ধুধু কলকাতা। পাখিদের আজ তুমুল আনন্দ। সকাল থেকে ধোঁয়া-ধুলোর গর্জন নেই, নীল আকাশে তিড়িংবিড়িং নাচছে। মোদ্দায়, কলকাতার এই দৃশ্যকল্প, এই চেহারা– পিন পড়লেও আজ আওয়াজ পাওয়া যাবে এই শহরে৷ করোনার উদ্বেগে চতুর্পাশ থইথই, তার মধ্যে না হয় এই হু-হু ধু-ধু অলস মধ্যবিত্ত বেলা-কাটানোর দিনে এটুকু দ...

।।একটি না ফিরতে চাওয়ার আখ্যান।। সায়ন্তন বিশ্বাস

ছবি
'মনখারাপ হলেই কুয়াশা হয়' প্রথমে ঠিক ছিল অক্টোবর সিজন শেষে সপ্তাহান্তের ভ্রমণে ঢু মেরে আসবো পশ্চিম ও দক্ষিণ সিকিম এবং ভ্রমণপঞ্জিতে গতানুগতিকতা কম থাকবে।কিন্তু বাদ সাধল পরীক্ষার হঠাৎ প্রি-স্যিডুলিং। অগত্যা পোস্ট - সিজন প্ল্যান টেনে আনলাম প্রি সিজনে। অত কম নোটিশে ট্রেনের টিকিট পাওয়া ভগবান দর্শনের মতো ব্যাপার, তবে সৌভাগ্যবশত ব্রেক জার্নি করে যাওয়ার কনফার্ম টিকিট পেয়ে গেলাম।অগত্যা খাগড়াঘাট রোড স্টেশন থেকে রাধিকাপুর এক্সপ্রেসে চেপে পড়লাম ২৭ তারিখ রাতে।মালদায় পৌঁছে রিটায়ারিং রুমে ঘন্টা দুয়েক অপেক্ষার পর ট্রেন বদল করে নির্ধারিত পদাতিক এক্সপ্রেসে উঠে বসি। পরের দিন এনজেপি স্বাগত জানালো ঝিরঝিরে বৃষ্টি সাথে নিয়ে,মনটা একটু খারাপ হলেও তখনও বুঝিনি বৃষ্টি বাবাজির অকাল কৃপায় পুরো প্ল্যানকে মডিফাই করতে হবে। যাইহোক, শিলিগুড়ির কুখ্যাত যানজট পেরিয়ে যখন জংশন পৌঁছলাম তখন ঘড়িতে ১০:৩০! গন্তব্য রিনচেনপং, শেয়ার গাড়িতে যেতে হলে দুটো রুটে যাওয়া যায়, একটা জোড়থাং হয়ে, আরেকটা মেল্লি হয়ে। এসব জানা ছিল, তবে যেটা অনেকেই বলতে ভুলে যায়, তা হল শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং-গ্যাংটক বাদে বাকি জায়গার শে...

।।মহাপৃথিবীঃ মধ্যবিত্তের শয়নকক্ষে বার্লিন দেওয়াল ভেঙে পড়ার আখ্যান।। সায়ন্তন দত্ত

ছবি
সমস্ত স্বপ্ন শেষ হয়ে যাওয়া সময়ে বেঁচে থাকতে থাকতে মনে হয়, এই বোধহয় ভবিতব্য ছিল, যেখানে যৌবনের তীব্র রাগী চিৎকৃত মৃণাল সেন অবশেষে এসে উপস্থিত হবেন ‘মহাপৃথিবী’(১৯৯১)র মত কোনো বদ্ধতায়, স্তব্ধতায় – যেখানে চিৎকার আর গুলির আওয়াজ বদলে যাবে হতাশা আর দীর্ঘশ্বাসে। সত্তরের উন্মত্ত দিন গুলোয় সারা কলকাতা শহর চষে ফেলত যার অস্থির ক্যামেরা, আঙ্গিকের নড়বড়ে অবস্থানে কখনও চলচ্চিত্রপ্রেমীরা বিরক্তও হয়েছি যে অস্থিরতার কারণে, ’৯১র মৃণাল সেন সেখানে উত্তর কলকাতার বদ্ধ বাড়িতে আটকে, ক্যামেরা একবারও এঘর ওঘর ছড়িয়ে বেরোয়না। স্থির, শান্ত, ক্লান্ত, ভারাক্রান্ত মনে ইতিহাসের অবশিষ্ট গতিপথ দেখে যাওয়া যাঁর ভবিতব্য। ‘মহাপৃথিবী’ নিরেট বামপন্থী আশাবাদের ছবি নয়, সত্তরের স্বকথিত ‘অ্যাজিট-প্রপ’ও নয়, বরং পৃথিবীব্যপী এক স্বপ্নের মৃত্যুকে এক স্বপ্নদর্শীর রিক্ত চোখে ক্লান্ত দেখে যাওয়া। কী আছে মহাপৃথিবীতে? প্রধানত গল্পের ছুতো, যেমন মৃণালের শেষ পর্বের সবকটি চলচ্চিত্রেরই মূল বিন্দু। ‘একদিন প্রতিদিন’র মেয়ের রাত করে বাড়ি ফেরা, ‘একদিন অচানক’র অধ্যাপক বাবার হঠাৎ হারিয়ে যাওয়া – এসবেরই যৌক্তিক এক্সটেনশন ‘মহাপৃথিবী’তে – মোটামুটি ঘষটে ঘষটে ...

।।কথামুখ।। ঊর্ণনাভ চট্টোপাধ্যায়

ছবি
মফঃস্বলের কোন কিশোর।বাঁচবার প্রতিটা মুহূর্তই যার মনে অসম্ভব বিস্ময়ের জন্ম দিয়ে চলে।মাটির প্রতিমা দেখলেই যাকে স্পর্শ করে ফেলে অনাবিল কাশগুচ্ছ - তেমন কিশোর।যে ভয় পায় এবং যার স্মৃতির গভীরে থাকে হারিয়ে যাওয়া লোকবৃত্তের নানা গল্প-নির্যাস।তার প্লাতেরো নেই,কিন্তু প্লাতেরোর মত করে তাকে ভালোবাসে সতেজ পেয়ারাগাছ,হলুদ বেড়াল এবং একজন বৃদ্ধা ভিক্ষুক।সে ভালো বোধ করে।ভালোবাসা পেলে ভালো লাগে তার।দুপুরের সাথে তার সহজ ক্রীড়ায় সময় থমকে যায়।যেমন থমকে দেখে বিকেলের রোদে কতগুলো কবুতর তাকে।পেয়ারাগাছের মতই বোকা তেমন কিশোরের নিজের বলতে সম্বল শুধু খেয়ালখুশি কথা বলবার স্বাধীনতা।সমস্ত মলিন প্রাত্যহিকতা থেকে দূরে পুরোনো টবের গায়ে  প্রবীণ শৈবাল খুঁজে পায় সে।পেতে হয় তাকে।না পেলে কবুতরেরা তাকে প্রশ্ন করবে কী শিখেছে সে এতকাল - এই যে এত দুপুরের শ্রম,কতটুকু জমা হল তার? কারোর গৃহিণীপনা ফুরোয় না দুপুর ফুরোলেও।বৈশাখের ছাদজুড়ে অভ্যস্ত হাতের নিপুণতা বাজে।সে ধ্বনি কান পেতে শুনে নিতে গেলে দার্ঢ্য থাকা চাই!দুপুর যে কতখানি ঋণী সেই কিশোরের কাছে তা কী সেই গৃহিণীর জানা? বেলা পড়ে এলে তবু থেকে যায় কথকতা,কথা।পুরোনো গলির পথে সমস্...