পোস্টগুলি

জুলাই, ২০২০ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

।।মুর্শিদাবাদে দুবার নন্দলাল বসু এসেছিলেন ছাত্র হীরাচাঁদের টানে।। গৌতম সরকার

ছবি
"খেলা করা ও শিল্পসৃষ্টি করা এ দুয়েরই প্রবৃত্তির মূল একই।  ... শিল্পসৃষ্টি কারো ফরমাস  মতো হয় না। শিল্প রচনার সময় শিল্পী হয়ে পড়েন নির্ভয় , নিঃসংকোচ ; কারণ সে সময় তাঁর মনপ্রাণ আনন্দে তন্ময় হয়ে যায়।... সেই আনন্দ শিল্পীর হৃদয়ের সঙ্গে বর্হিলোকের যোগ স্থাপন করে , শিল্পীর হৃদয় ও বস্তুর মধ্যে একত্ব প্রতিষ্ঠা করে এবং এই ঐক্যবোধ থেকেই আনন্দের উৎপত্তি।  পরে সেই আনন্দ শিল্পসৃষ্টি-রূপে প্রকাশিত হয় " - শিল্পসৃষ্টি সম্বন্ধে এরকম দার্শনিক তত্ত্ব এত সহজ ভাষায় শিল্পাচার্য নন্দলাল বসু নিবদ্ধ করে গেছেন।                                                                                                          শান্তিনিকেতনের কলাভবনের ইতিহাস যেসকল মানুষের স্বার্থত্যাগের মহিমায় সমুজ্জ্বল নন্দলাল বসু তাঁদের মধ্যে অন্যতম ।এই ...

।।ঈশ্বর,লিবিডো ও অতিমারির একটি দিন।। ঊর্ণনাভ চট্টোপাধ্যায়

ছবি
নিরাপত্তার সীমাহীন বেষ্টনীর মধ্যে শুয়ে ঈশ্বর লিবিডোর স্বপ্ন দেখছেন।নীচে সারা বিশ্ব অপলকে মুহূর্ত গুনছে।বিশ্বাসী মূলত সময়োচিত নির্বাণে আস্থা রাখেন।খোলস ছেড়ে দিয়ে নির্বিরোধ দিগন্তে ভেসে যাওয়া।সেখানে নিভৃতি বরফের মতো সাদা,ক্রমাগত উঁচু থেকে আরো উচ্চতায় বিলিয়ে দেওয়ার মহামন্ত্র।ঈশ্বর সে মন্ত্রোচ্চারণ শুনতে পাচ্ছেন।মিউজ়িক সিস্টেমে 'বেবিডল ম্যয় সোনে দি' বাজছিল।নীচে,সম্ভ্রান্ত উচ্চতা থেকে যতটা নীচে নামলে মানুষ সামান্য স্পর্শ পেলে বর্তে যায়,সেখানে ঈশ্বরের সাধের আসনটুকু পাতা।ঈশ্বর আর কি চান?ঈশ্বর নিজেকেই প্রশ্ন করেন।ঈশ্বর মনঃসমীক্ষণের আওতায় নিজেকে দেখতে পান।সেই অনাদিকাল থেকে তাঁর সর্বপ্রকার মৌনতা অব্যক্ত যন্ত্রণার মতো ফেটে পড়তে ‌চায়।চেয়েছে।অনুভবের এমন আস্বাদ নতুন নয়।অথচ ঈশ্বর মনোলোকের প্রহরা পেরিয়ে কোন নির্জ্ঞানেই পৌঁছতে পারেননি।এটুকু তাঁর অক্ষমতা।হাজার কোটি বছরের আয়ুষ্কাল সত্ত্বেও তাঁর পেশীতে শৈথিল্য আসেনি,বাৎসল্যে আসেনি ক্ষয়।অথচ তাঁর সুখ নেই।দুঃখও হয়নি কোনদিন।তবু আজ ঈশ্বর লিবিডোর স্বপ্ন দেখছেন।বটচ্ছায়ায় সন্ধের অন্ধকার গাঢ়,ঈশ্বরের চোখে ঘুম নেই,ঈশ্বর জলে ডিঙি ভাসিয়ে দেননি উদ্দেশ্যহীন।...

।।যে কাহিনীর একাধিক উপধারা আছে,পর্ব - এক।। শুভদীপ ভট্টাচার্য্য

ছবি
যাওয়া মানে তো কেবলই যাওয়া নয়। পথের দেবতা প্রসন্ন জানিয়েছিল " মূর্খ বালক পথ তো আমার শেষ হয়নি... সে চলে.....।" মানুষের জন্মের পরপরই তার নিয়তি এই পথের পাঁচালী জুড়ে দিয়েছে তার ভাগ্যের সঙ্গে। সেই তাড়নাতেই তার কোথাও থামা নেই। জীবনের নানা বাঁক পেরিয়ে নিরন্তর তার প্রবহমানতা । এই চলাই একদিন অজান্তে সৃষ্টি করে ফেলে ইতিহাস। ছুঁড়ে দেয় কালের গহ্বরে। প্রজন্মান্তরে সেসবের সন্ধান করে কেউ কেউ। ডেস্কের টেবিলল্যাম্পের আলোর নীচে সন্ধানী দুটি চোখ অন্ধকারের উৎস থেকে নানা বিস্মৃত তথ্যকে সহযাত্রীর মতো হাত ধরে এনে ফেলে আলোর মধ্যে। নানা উপায়ে চলে আলোকপাত। একদিন টাইপের অক্ষর হয়ে ছাপা বইয়ের পাতা তেমন করেই সন্ধান দেয় বিস্মৃত কাশিমবাজার বন্দরের ইতিহাস।  ভেনিস থেকে আসা সতেরো বছরের তরুন নিকালো মানুচী। নেহাতই কেরানি,এইটুকুই তার পরিচয়। ভারতে এসে পরিভ্রমন করতে করতে একসময় হাতে তুলে নেন কলম। ভূ-ভারতের দৈনিক যাপনের সে খণ্ডচিত্র চোখে পড়ে হরবখত। শেষ হয়েও শেষ হয়ে যায়না যে সবের রেশ।মানুচী  সেসবই লিখে রাখলেন অভিজ্ঞতানুযায়ী। স্টোরিয়া দে মোগল কালে কালে হয়ে ওঠে মানুচীর লেখা ইতিহাসের প্রামান্যগ্রন্থ। সেই গ্রন্থ গল্প শোনায়...

।।একটি আত্মহত্যা, কিছু কথা।। অনির্বাণ দে

ছবি
‘ক্ষতিই না হয় হয়েছে, সেই জন্য গলায় দড়ি দিতে হবে ?’ , বহরমপুরে খাগড়া শ্মশানে দাঁড়িয়ে  বলছিলেন অশোক মন্ডল। ভিতরে ইলেকট্রিক চুল্লিতে তখন অশোকবাবুর ভাই বীরেনপতি মন্ডলের দেহ পুড়ে যাচ্ছিল।   খড়গ্রামের গয়েশপুরের  বাসিন্দা বীরেনপতি মন্ডল ৬ জুলাই ২০২০ আত্মঘাতী হন। সোমবার বিকেলে বাড়ি  থেকে মাঠের উদ্দেশ্যে বেড়িয়ে গিয়েছিলেন  বীরেনপতি। সন্ধ্যা হলেও বাড়ি না ফেরায় খোঁজাখুজি শুরু করেন আত্মীয়রা । সন্ধেয়  মাঠের পাশে একটি আম গাছে তার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করেন স্থানীয়রা ।  খড়গ্রাম থানায় খবর দেওয়া হল মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় পুলিশ।  মঙ্গলবার কান্দী মহকুমা হাসপাতালে ময়নাতদন্ত হয়। দেহ আত্মীয়দের হাতে তুলে দেয় পুলিশ । এদিনই বহরমপুর খাগড়া শ্মশান ঘাটে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় । এত সহজ ভাবেই মৃত্যু হয়েছে একজন কৃষকের! বীরেনপতি বাড়িত বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে দুশিন্তার মধ্যে ছিলেন।    দুই, ছেলে, স্ত্রী, স্বামী হারা মেয়ে,  বৃদ্ধা মাকে নিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে উঠছিল বীরেনপতির কাছে। কিছুদিন  আগে জামাই আত্মহত্যা করেন, এক ছেলে প্রতিবন্ধী । প্রতিদিন বাড়ছি...